নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে গাছের চারা রোপণ করে মেয়ের প্রথম জন্মদিন উদযাপন করা এক দম্পতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সম্মানিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই আয়োজন হয় বলে সেদিন জাগো নিউজ জানায়।
চারা লাগিয়ে প্রথম জন্মদিন
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ শহরের জেলা পরিষদ এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ও আসমাউল হুসনা তাদের একমাত্র মেয়ের প্রথম জন্মদিন উদযাপন করেন গাছের চারা রোপণ করে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তিনি দম্পতিকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নেন।
সেখানে জেলা প্রশাসক দম্পতির হাতে উপহার হিসেবে একটি গিফট বক্স ও একটি গাছের চারা তুলে দেন। পরে কেক কেটে তাদের মেয়ের জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

কী বললেন মা ও জেলা প্রশাসক
আসমাউল হুসনা বলেন, “জেলা প্রশাসকের ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ প্রজেক্টে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, আমরা মেয়ের জন্মদিন অন্যরকমভাবে উদযাপন করবো। সমাজ এবং দেশের প্রতি প্রতিটি মানুষের দায়বদ্ধতা থেকে যায়। সে কারণেই আমরা গাছের চারা রোপণ করে ভিন্ন আঙ্গিকে জন্মদিন উদযাপন করি।” তিনি সম্মানিত করার জন্য জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, উপহার হিসেবে পাওয়া গাছের চারা তাদের আরও অনুপ্রেরণা দেবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন কর্মসূচিতে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে দম্পতি গাছের চারা লাগিয়ে মেয়ের জন্মদিন উদযাপন করেছেন। তার মতে, এমন মানসিকতা সবার মধ্যে থাকলে শহরকে সবুজ করার উদ্দেশ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।

‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচি
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক ২০২৫ সালের ১১ মার্চ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সভায় ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সেদিনই শহরের চাষাড়া মোড় থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ থেকে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন সরানো শুরু হয়। জেলা প্রশাসক তখন জানান, শহরে এক লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গাছ থেকে পেরেক তোলার কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের ২৯ জুন সোনারগাঁও উপজেলায় ১০ হাজারতম গাছটি রোপণ করেন জেলা প্রশাসক। দেশ রূপান্তর জানায়, সোনারগাঁওয়ের সব ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ৫০টি রাস্তার পাশে মোট ৪৯ হাজার ২৮৭ মিটার জুড়ে কৃষ্ণচূড়া, শিমুল, সুপারি, নারিকেল, তাল, সজনে, অর্জুন, নিম, কাঁঠাল, আম, বকুল ও সোনালুর চারা লাগানো হয়। একই দিনে নদীর পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় রোপণের জন্য জেলা প্রশাসন বিআইডব্লিউটিএকে দুই হাজার গাছ সরবরাহ করে।

ঘনবসতিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জে গাছের গুরুত্ব
ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ আয়তনে দেশের সবচেয়ে ছোট জেলা, আয়তন ৬৮৪.৩৫ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ৩৯ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ জন। শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর তীরের এই জেলা পাটকলের জন্য ‘বাংলার ড্যান্ডি’ নামে পরিচিতি পায়; বস্ত্র, সুতা ও রং, জাহাজ নির্মাণ এবং ইটভাটাও এখানকার অর্থনীতির অংশ। কর্মসূচি ঘোষণার সময় জেলা প্রশাসক নিজেও নারায়ণগঞ্জকে শিল্পাঞ্চল ও খুব ঘনবসতিপূর্ণ শহর বলে উল্লেখ করেছিলেন।
এমন শহরে গাছ ছায়া দেয় এবং গরম কমায়। নগর বনায়ন নিয়ে বিশ্বকোষীয় তথ্য অনুযায়ী, বড় ছায়াদার গাছ আশপাশের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে পারে। গাছ বৃষ্টির পানির গতি কমিয়ে তা মাটিতে শুষে নিতে সাহায্য করে এবং বাতাসের কিছু দূষণও কমায়।

ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দেশ রূপান্তর (১১ মার্চ ও ২৯ জুন ২০২৫), উইকিপিডিয়া (নারায়ণগঞ্জ জেলা, নগর বন)




মন্তব্য
(০)