খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ভাগাভাগির জন্য একটি জাতীয় ব্যবস্থা চালু করেছে কেনিয়া, যার নাম জাতীয় কীটনাশক অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ কাঠামো। সরকার বলছে, এই তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকিতে কাজে লাগবে, ভোক্তা নিরাপদ খাবার পাবেন এবং দেশি ও রপ্তানি বাজারে কেনিয়ার কৃষিপণ্যের জায়গা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
কাঠামোটি তৈরিতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ক্যাবির (CABI) নেতৃত্বাধীন প্ল্যান্টওয়াইজপ্লাস কর্মসূচি, তাদের কীটনাশক ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমের মাধ্যমে। কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, কেনিয়া উদ্ভিদ স্বাস্থ্য পরিদর্শন সেবা (কেফিস), কৃষি ও খাদ্য কর্তৃপক্ষের উদ্যান ফসল অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ নিয়ে গঠিত বহুখাতভিত্তিক একটি দল এটি তৈরি করেছে। সঙ্গে ছিল খুচরা বিক্রেতা, রপ্তানিকারক, পরীক্ষাগার, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নায়েরি, নান্দি, মাকুয়েনি, নিয়ান্দারুয়া, মোম্বাসা ও মেরু কাউন্টির সরকার।
কাজটি লেগেছে দুই বছরের বেশি। ২০২৪ সালে এক জাতীয় কর্মশালায় খসড়া তৈরি হয়, পরামর্শ দেন মার্কিন কৃষি বিভাগের কীটনাশক তথ্য কর্মসূচির সাবেক এক প্রধান; যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়। ২০২৫ সালের মে থেকে জুনে পাঁচটি কৃষিপ্রধান কাউন্টি কিরিনিয়াগা, কিয়াম্বু, কাজিয়াদো, নারোক ও তাইতা তাভেতায় এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়। সেই অভিজ্ঞতায় চূড়ান্ত কাঠামো ও কার্যপ্রণালী তৈরি হয়েছে; কার্যপ্রণালী তৈরিতে সহায়তা করেছে ট্রেডমার্ক আফ্রিকা।
উদ্বোধনে কৃষি সচিব জেমস ওয়ানজোহি বলেন, "খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বহুখাতভিত্তিক কাজ।" তিনি বলেন, ফসলের রোগ ও পোকা দমনে কীটনাশকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হতে হবে এবং উত্তম কৃষি চর্চা (জিএপি) মেনে চলতে হবে।
ক্যাবির স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মেরিলুসি ওরোঞ্জে বলেন, এই কাঠামো দেশি ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও রপ্তানি বাজারে কেনিয়ার কৃষিপণ্যের প্রতি আস্থা বাড়াবে। সংস্থাটির কৃত্রিম কীটনাশক বিষয়ক বৈশ্বিক প্রধান মেলানি বেটম্যান একে কীটনাশকের ঝুঁকি কমানোর পথে বড় মাইলফলক বলেছেন। ব্যবস্থাটি সচল রাখতে অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য ভাগাভাগিতে অর্থায়নের জন্য সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ক্যাবি ও তার অংশীদারেরা।
শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য উদ্যান ফসলের চাষিদের জন্য এর মানে, অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা আর নানা সংস্থায় ছড়িয়ে থাকবে না, সমন্বিতভাবে হবে; আমদানিকারকেরা ক্রমেই এ ধরনের প্রমাণ চাইছেন। তথ্যগুলো ক্যাবির প্রকাশিত বিবরণ থেকে নেওয়া।
ছবি: SuSanA Secretariat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)