মেহেরপুরে আদাজাতীয় ঔষধি ফসল একাঙ্গীর চাষ বাড়ছে। জেলায় দীর্ঘদিন ধরে নানা মসলা চাষ হলেও সম্প্রতি একাঙ্গী বাণিজ্যিকভাবে ছড়াচ্ছে; চলতি মৌসুমে আবাদ হয়েছে ১১ হেক্টর জমিতে। ওষুধ ও প্রসাধনীর কাঁচামাল হিসেবে এর বাজারে চাহিদা আর দাম দুটোই ভালো বলে জানাচ্ছেন চাষিরা।
গাংনী উপজেলার দেবীপুর গ্রামের ইশতিয়াক আহমেদ গত বছর এক বিঘায় পরীক্ষামূলক চাষ করেছিলেন। দেড় লাখ টাকা খরচ করে প্রায় চার লাখ টাকা লাভ হওয়ায় এবার তিন বিঘায় আবাদ করেছেন। তাঁর হিসাবে বিঘাপ্রতি ৯০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ করে নয় মাসের মাথায় চার লাখ টাকার বেশি লাভ সম্ভব।
তবে ফসলটি ব্যয়বহুলও। ঝোরপাড়া গ্রামের কৃষক মাসুদ জানান, একাঙ্গী খেতে প্রতিদিন ১৫-২০ জন শ্রমিক লাগে, নিয়মিত কীটনাশক আর পরিচর্যা দিতে হয়, আর বৃষ্টি বেশি হলে পচন রোগ ঠেকানো কঠিন।
গাংনীর মনিরুল ইসলাম প্রায় ১৫ বিঘায় একাঙ্গী লাগিয়েছেন। টানা বৃষ্টির পর তাঁর জমিতে পাতা ও গোড়া পচা রোগ দেখা দিয়েছে, নিয়মিত পরিচর্যা আর ওষুধেও খেত স্বাভাবিক হচ্ছে না। তাঁর পরামর্শ, শুধু লাভের কথা শুনে না বুঝে এই চাষে নামলে ক্ষতির সম্ভাবনা আছে।
একাঙ্গী ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরির কাঁচামাল, পাশাপাশি রান্নায় সুগন্ধি মসলা আর মাছ ধরার টোপ হিসেবেও এর কদর আছে। মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, একাঙ্গী একটি উচ্চমূল্যের ঔষধি ফসল, বাজারে এর চাহিদা ও দাম সবসময় ভালো থাকে; ঠিকভাবে পরিচর্যা করলে দেড় লাখ টাকা খরচে এক বিঘা থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।
লাভের এই হিসাব যেমন চাষিদের টানছে, তেমনি শ্রমিকের খরচ আর বর্ষায় পচনের ঝুঁকি বলছে, নতুন চাষিদের নিষ্কাশন ভালো এমন জমি বেছে নেওয়া এবং আগে ছোট পরিসরে শুরু করাই নিরাপদ, যেমনটা ইশতিয়াক আহমেদ করেছিলেন।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের মেহেরপুর সংবাদদাতার।
ছবি: একাঙ্গী (Kaempferia galanga) গাছ, Hariadhi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)