সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

শাক চাষের আয়ে ছেলেকে বিদেশে পড়ানোর স্বপ্ন সিদ্ধিরগঞ্জের কৃষক শাহজাহানের

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৪০ বছর ধরে লিজের জমিতে চাষ করা কৃষক মো. শাহজাহান ২০২৪ সালের নভেম্বরে মিজমিজি বিলের ১৯০ শতাংশ জমিতে কয়েক ধরনের শাক চাষ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, এই আয়েই তিনি সন্তানদের উচ্চশিক্ষা দিচ্ছেন এবং বড় ছেলেকে বিদেশে পড়তে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শাক চাষের আয়ে ছেলেকে বিদেশে পড়ানোর স্বপ্ন সিদ্ধিরগঞ্জের কৃষক শাহজাহানের
শাকসবজি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় ৪০ বছর ধরে অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন ৬২ বছর বয়সী কৃষক মো. শাহজাহান। জাগো নিউজের ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই মৌসুমে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১ নম্বর ওয়ার্ডে, মিজমিজি-জালকুড়ি-চাষাঢ়া সড়কের দশ পাইপ অংশের পাশে মিজমিজি বিলে ১৯০ শতাংশের ৪টি ক্ষেতে লালশাক, লাউশাকসহ কয়েক ধরনের শাক চাষ করেছিলেন। তিনি আশা করছিলেন, আগের বছরগুলোর চেয়ে এবার বেশি লাভ হবে।

বরিশাল থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে


শাহজাহান বরিশালের প্রয়াত আলী আহমেদের ছেলে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তিনি কৃষিকাজে ঝুঁকে পড়েন এবং ১৯৮১ সালে নিজ গ্রাম ছেড়ে সিদ্ধিরগঞ্জে চলে আসেন। তরুণ বয়স থেকেই সেখানে চাষাবাদ শুরু করেন। শুরুতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকলেও পরে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি উত্তরপাড়া খোলা মার্কেটের পাশে ৫ কাঠা জমি কিনে বাড়ি করেছেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে দেশের পুরোনো শিল্প এলাকাগুলোর একটি। ২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা ও কদম রসুল পৌরসভা মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত হয়, যা ২৭টি ওয়ার্ডে বিভক্ত। কলকারখানার ভিড়ের মধ্যেও এলাকার বিলের জমিতে শাকসবজি চাষ চলে আসছে।

নারায়ণগঞ্জের কাছে শীতলক্ষ্যা নদী; সিদ্ধিরগঞ্জ এই নদীর তীরে। ছবি: P.K.Niyogi / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
নারায়ণগঞ্জের কাছে শীতলক্ষ্যা নদী; সিদ্ধিরগঞ্জ এই নদীর তীরে। ছবি: P.K.Niyogi / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

এক মৌসুমে পাঁচ রকম শাক


শাহজাহান জাগো নিউজকে জানান, ৩ বছরের জন্য লিজ নেওয়া ৪টি জমিতে তিনি সবজি চাষ করছেন। সেই মৌসুমে ১১৫ শতাংশে লাউশাক, ১০ শতাংশে লালশাক, ১০ শতাংশে মুলাশাক, ৪০ শতাংশে পুঁইশাক এবং ১৫ শতাংশে নাপা শাকের বীজ বুনেছিলেন। এর বাইরে অন্য জায়গাতেও তাঁর কয়েকটি ক্ষেত আছে। তিনি সারা বছরই চাষ করেন, শুধু কোনো এক মৌসুমে নয়।

তাঁর হিসাবে, বীজ বোনা থেকে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এসব শাকে ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল, আরও ১০ হাজার টাকা খরচ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ক্ষেত দেখাশোনার জন্য তিনি বাৎসরিক চুক্তিতে ৮ জন কর্মচারী রেখেছেন, প্রত্যেককে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন দেন বলে জানান। জমিতে টিএসপি, ইউরিয়া ও পটাশসহ কয়েক ধরনের সার দেন এবং সপ্তাহে একবার সেচ দেন। লাভের আশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্য বছরের চেয়ে এবার লাভ বেশি হবে। আমার মনে হয়, ২ লাখ টাকা বিক্রি করা সম্ভব ক্ষেতের সব শাক-সবজি। ভালো ফলনে এবার তেমন শাক নষ্ট হয়নি।’

ফসল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আবুল হোসেন জানান, এসব শাকের মধ্যে লালশাক সবচেয়ে কম সময়ে, ২০ থেকে ২২ দিনে বড় হয়; অন্য শাকগুলো তুলতে এক থেকে দেড় মাস লাগে। বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবার (বামিস) তথ্যও বলছে, লালশাক সারা বছর, বিশেষ করে শীতকালে বোনা যায় এবং বীজ বোনার ২০ থেকে ২৫ দিন পর থেকেই বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়। বারি লালশাক-১ ও আলতাপাতি এর উন্নত জাত; শতক প্রতি শাকের ফলন ৪০ থেকে ৫৬ কেজি।

লালশাক, বাংলাদেশে বহুল চাষ হওয়া একটি পাতাশাক। ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
লালশাক, বাংলাদেশে বহুল চাষ হওয়া একটি পাতাশাক। ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)

পুঁইশাক (বাসেলা আলবা) দ্রুত বাড়া লতানো গাছ, যার পুরু, হৃৎপিণ্ড আকৃতির পাতা রান্নায় ব্যবহৃত হয়; বাংলায় একে মাছ, চিংড়ি বা কুমড়ার সঙ্গে রান্নার চল আছে। লাউয়ের কচি ডগা ও পাতা লাউশাক হিসেবে খাওয়া হয়।

পুঁইশাকের লতা, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের রঙ্গারেড্ডি জেলায় তোলা। ছবি: Adityamadhav83 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
পুঁইশাকের লতা, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের রঙ্গারেড্ডি জেলায় তোলা। ছবি: Adityamadhav83 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সন্তানদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন


নিজে পড়াশোনা শেষ করতে না পারলেও সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করতে চেষ্টার কমতি রাখেননি শাহজাহান। তিনি জানান, তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন এবং তাঁকে শিগগিরই বিদেশে পড়তে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। ছোট মেয়ে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়ছেন। এই বয়সেও তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, এবং সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে মনে করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা হাসনাত জাগো নিউজকে বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জে তখন মোট ৫৪৪ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা চাষাবাদ করছিলেন। তাঁর ভাষ্য, নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজস্ব ও প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ সাপেক্ষে কৃষকদের উপকরণ ও পরামর্শ দেওয়া হয় এবং তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা চলে। শাক চাষে সার বা বালাইনাশকের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা (বামিস), উইকিপিডিয়া (সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, অ্যামারান্থাস ট্রাইকালার, বাসেলা আলবা)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

কুয়াশায় শিকড় খাওয়ানোর প্রযুক্তিতে রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদনের পরীক্ষা ইংল্যান্ডে

স্টার্টআপ এয়ারপনিক্স ও ডাইসন ফার্মিং ডেফরার অর্থায়নে দুই বছরের এক পরীক্ষা শুরু করেছে: কুয়াশাভিত্তিক পদ্ধতিতে বর্তমান খরচের অর্ধেকেরও কমে ইংল্যান্ডে রোগমুক্ত প্রথম প্রজন্মের আলুবীজ উৎপাদন সম্ভব কি না।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

মাশরুমের গাঁজন প্রযুক্তিতে টফুর বর্জ্য হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ সুস্বাদু উপাদান

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সয়া দুধ ও টফুর অবশিষ্ট ওকারা ঝিনুক মাশরুমের মাইসেলিয়াম দিয়ে গাঁজন করে এর প্রোটিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে তুলেছেন, বাড়িয়েছেন উমামি স্বাদ।

Green Queen১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

মাদারগঞ্জে ৬০ হেক্টরে আগাম শসা, দুই হাজার টন উৎপাদনের আশা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এবার প্রায় ৬০ হেক্টরে আগাম শসার আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হতে পারে প্রায় দুই হাজার টন; পাইকারি বাজারে কেজি ৩০-৪০ টাকা, বিঘায় খরচ ১৫-২০ হাজার আর বিক্রি ৩০-৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)