সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ভারতীয় ইলিশের চালান জব্দ করল কাস্টমস

২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি রাতে বেনাপোল স্থলবন্দরে মিঠাপানির মাছের ঘোষণা দিয়ে আনা একটি চালানে ভারতীয় ইলিশ পাওয়ার কথা জানিয়ে তা জব্দ করে কাস্টমস। কাস্টমসের ভাষ্যে জব্দ ইলিশের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ভারতীয় ইলিশের চালান জব্দ করল কাস্টমস
মৎস্য

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় ভারত থেকে আনা ইলিশ মাছের একটি চালান জব্দ করেছে বেনাপোল কাস্টমস। ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার রাতে বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘোষণাপত্রে বোয়াল, ফলি ও বাঘাইড়ের মতো 'সুইট ফিশ' বা মিঠাপানির মাছের কথা লেখা থাকলেও কায়িক পরীক্ষায় ২২৫টি প্যাকেজের একাংশে ভারতীয় ইলিশ পাওয়া যায়। জব্দ করা ইলিশের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানানো হয়।

কীভাবে ধরা পড়ল চালানটি


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুটি ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ হলে বেনাপোল কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। বেনাপোল স্থলবন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক শাহদত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে প্রথমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশির জন্য ইয়ার্ডে আসে, কিছু পরে আসেন কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মাছবাহী ট্রাক খোলার পর অন্য মাছের ভেতরে ইলিশ পাওয়া যায়।

ইলিশের পরিমাণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে দুই রকম হিসাব আসে। জাগো নিউজ জানায়, ২২৫টি প্যাকেজের মধ্যে ৫৪টিতে ইলিশ ছিল, যার ওজন সাড়ে তিন টন। অন্যদিকে দ্য ডেইলি অবজারভার বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র পালের বরাতে জানায়, ৫৩টি কার্টন থেকে ৫ হাজার ৯৪৩ কেজি ইলিশ উদ্ধার করা হয়। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের স্পষ্ট অমিল থাকায় পুরো চালানটি তাৎক্ষণিক জব্দ করা হয়। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পচনশীল পণ্য বিবেচনায় অন্য মাছগুলো খালাসের ব্যবস্থা করা হলেও ইলিশ বাজেয়াপ্ত করা হয়। উদ্ভব চন্দ্র পাল সাংবাদিকদের বলেন, জব্দ করা মাছ কাস্টমস বিধি অনুযায়ী নিলামে তোলা হবে।

বোয়াল (Wallago attu), মিঠাপানির একটি মাগুরজাতীয় মাছ। ঘোষণাপত্রে এই মাছের কথা লেখা ছিল বলে কাস্টমস জানায়। ছবি: Salil Kumar Mukherjee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বোয়াল (Wallago attu), মিঠাপানির একটি মাগুরজাতীয় মাছ। ঘোষণাপত্রে এই মাছের কথা লেখা ছিল বলে কাস্টমস জানায়। ছবি: Salil Kumar Mukherjee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কারা জড়িত, কাস্টমস কী বলেছে


কাস্টমস সূত্রের বরাতে দুই সংবাদমাধ্যমই জানায়, জান্নাত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বৈধ পথে চালানটি আনার চেষ্টা করে; রপ্তানিকারক হিসেবে নাম ছিল আরজে ইন্টারন্যাশনালের। চালানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিংক ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি ও পাচারচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে ব্যবসায়ীদের একটি অভিযোগও উঠে আসে যে চালানটিতে পরীক্ষণ কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। এসব অভিযোগ তখন তদন্তাধীন ছিল।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন, এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জাগো নিউজকে তিনি আরও বলেন, আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছেন; কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ তদন্তে মিললে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের শুল্ক ফাঁকির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বেনাপোলে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে একই সূত্রের এমন অভিযোগও ছিল যে কাস্টমসের কিছু কর্মকর্তা চালানপ্রতি ঘুস নেন; প্রতিবেদনে এ অভিযোগের বিষয়ে কাস্টমসের আলাদা কোনো জবাব ছিল না।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোলে যশোর রোড, ২০১৫ সালে তোলা। সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের বেনাপোল। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোলে যশোর রোড, ২০১৫ সালে তোলা। সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের বেনাপোল। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

বেনাপোল বন্দর ও ইলিশ


বেনাপোল যশোর জেলার শার্শা উপজেলার একটি শহর। এখানে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর অবস্থিত, আর সীমান্তের ওপারে রয়েছে ভারতের পেট্রাপোল শুল্ক স্টেশন। কলকাতার কাছাকাছি হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলপথের বাণিজ্যে বন্দরটির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি; ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের বড় অংশ এই পথেই দেশে ঢোকে।

ইলিশ (Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেরও রাজ্য-মাছ। বাংলার দুই পাশেই এ মাছের চাহিদা অনেক এবং দামও অন্য মাছের চেয়ে বেশি। কাস্টমস কর্মকর্তাদের বর্ণনায়, উচ্চমূল্যের এই মাছকে কম শুল্কের মিঠাপানির মাছ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে খালাসের চেষ্টা হয়েছিল বলেই চালানটি জব্দ করা হয়।

পদ্মা নদীর ইলিশ। ছবি: Fahad Faisal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পদ্মা নদীর ইলিশ। ছবি: Fahad Faisal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি অবজারভার, উইকিপিডিয়া (বেনাপোল, ইলিশ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)