শাহজাদপুরে নদীভাঙনে বিলীন গ্রাম, ধিতপুরে ৫০০ ঘরের ৩৫০টি নদীগর্ভে
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সোনাতনী ইউনিয়নে দুই বছর আগে বারপাখিয়া গ্রাম বিলীনের পর ভাঙছে ধিতপুর ও কুরশী; অনেক পরিবার ত্রাণ পায়নি বলে অভিযোগ।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সোনাতনী ইউনিয়নে দুই বছর আগে বারপাখিয়া গ্রাম বিলীনের পর ভাঙছে ধিতপুর ও কুরশী; অনেক পরিবার ত্রাণ পায়নি বলে অভিযোগ।
সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে বর্ষার শেষে যমুনার ভাঙনে অন্তত ৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে গেছে, এক সপ্তাহেই প্রায় ২০ বিঘা তিন ফসলি জমি; স্থানীয়দের অভিযোগ অবৈধ বালু উত্তোলন আর স্থায়ী তীর সংরক্ষণের অভাব।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের বড় বর্তা গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর তীব্র স্রোতে একটি বসতঘর নদীতে চলে গেছে; ভাঙনের মুখে আরও ১৫টি পরিবার, বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলে ভাঙন বাড়ছে বলে অভিযোগ।
ফসলমানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মার চরে কোন জমিতে কী ফসল হবে, কোন বীজ তুলে রাখা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেন নারীরা; কিন্তু জমির দলিল, কৃষকের তালিকা আর নতুন কৃষক কার্ডের আবেদনে তাঁদের নাম আসছে না।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার চরখোলাবাড়িয়া ও দিগনগর গ্রামে ২০ জুলাই থেকে চলা মধুমতির ভাঙনে অন্তত ১১০টি বসতভিটা ও একমাত্র রাস্তার প্রায় দুই কিলোমিটার নদীতে গেছে; স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদও ঝুঁকিতে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার সময় ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ সাতজনকে আটক করে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত; কোস্টগার্ড বলছে, এই বালু উত্তোলনে নদীভাঙন বাড়ছে, হুমকিতে তীরের ফসলি জমি ও বসতভিটা।
ফরিদপুরের চাপুলিয়ায় ২০১১-১২ অর্থবছরে নদী থেকে এক কিলোমিটার দূরে গড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ২০২১ সাল থেকে ভাঙনে হারিয়ে গেছে; স্থায়ী বাঁধ ও পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন।
ঝালকাঠির পূর্ব বাদুরতলায় রোববার হঠাৎ ভাঙনে প্রায় ১০০ শতক জমি নদীতে গেছে; বেড়িবাঁধ ভাঙায় আমন খেতে লোনা জোয়ার ঢোকার আশঙ্কায় কৃষকরা, ঝুঁকিতে ৬৫ নম্বর বাদুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
আলফাডাঙ্গা, সদর, সদরপুর, চরভদ্রাসন ও ভাঙ্গায় বসতভিটা, খেত, স্কুল-মাদ্রাসা নদীর মুখে; পাউবো দুই দিনে জিও ব্যাগ ফেলার কথা বললেও বাসিন্দারা চাইছেন স্থায়ী বাঁধ।
পটুয়াখালীর হাজির হাটে অন্তত পাঁচটি পরিবার ঘর সরিয়েছে; কবরস্থান, স্কুল ও কৃষিজমি নদীর মুখে, ইউএনও বলছেন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাসজমি বরাদ্দের ব্যবস্থা হবে।
পতিত জমিতে ছড়িয়ে থাকা বিন্না ঘাস কোন কোন প্রকল্পে ব্যবহার করা যায়, তা পর্যালোচনায় সরকার একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে।
কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। এতে দুর্যোগের ক্ষতচিহ্ন এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে তীব্র নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, অন্যদিকে পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি। ফলে ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কা ও কৃষি ক্ষতির দ্বৈত সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন জেলার হাজারো মানুষ।
পরিবেশ২০২৬ সালের জুনের শেষে গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি ওঠানামায় জেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দেয়; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে সাত উপজেলায় প্রায় ১১৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়।