মুন্সীগঞ্জে প্রবাসফেরত আকরামের পরিকল্পিত ছাদকৃষি
১৮০০ ফুটের পরিকল্পিত ছাদবাগান!
১৮০০ ফুটের পরিকল্পিত ছাদবাগান!
ছাদকৃষিচাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে বাড়ির ১,৪০০ বর্গফুট ছাদে ও সাড়ে ৬ শতক আঙিনায় ২০২৪ সালে ড্রাগন লাগিয়েছিলেন ৬২ বছরের আবু হানিফ; এখন বছরে লাখ টাকার বেশি লাভ করছেন, এবার ইজারা নিয়েছেন আরও ৬০ শতক জমি।
জনসন রোডে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রায় ১১ হাজার বর্গফুটের ফাঁকা ছাদে ৪১৮টি গাছ, জলাধার আর বাঁশের ঝোপ বানিয়ে পাখির আশ্রয় তৈরি করা হয়েছে; খরচ প্রায় ১০ লাখ টাকা।
ছাদকৃষিছাদবাগান টেকসই করতে হলে ছাদের ভারবহন ক্ষমতা, বিম-কলামের অবস্থান, পাত্রের আকার, মাটি তৈরি ও পানি নিষ্কাশন আগে থেকে ঠিক করে নিতে হয়; এগ্রিকেয়ার২৪ ধাপে ধাপে পদ্ধতিটি তুলে ধরেছে।
ছাদকৃষিবাগান, বারান্দা বা ছাদের টবেই জৈব পদ্ধতিতে রসুন ফলানো যায়; অক্টোবর-নভেম্বরে কোয়া পুঁতে, মালচিং ও পরিমিত পানিতে যত্ন নিয়ে গ্রীষ্মের শেষে তোলা যায় টাটকা রসুন।
লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায় লিখেছেন, জাতীয় বৃক্ষমেলায় এবার ১৬ লাখ চারা বিক্রি হলেও তার বড় অংশ ছাদ ও ঘরের বাগানের গাছ; তিনি নির্দিষ্ট মূল্যতালিকা, নামফলক ও নগরবাগানিদের আলাদা জায়গার প্রস্তাব দিয়েছেন।
পাবনার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার গৃহিণী জান্নাতুল ফেরদৌস যুথি শখের ছাদবাগানকে ক্যাকটাস ও সাকুলেন্টের চারা বিক্রির ব্যবসায় পরিণত করেছেন; অনলাইন-অফলাইনে বিক্রি করে তাঁর মাসিক আয় এখন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
ছাদকৃষিঢাকার শেরেবাংলা নগরে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬-এ ৯ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৮ লাখ ১২ হাজার ৮০২টি চারা বিক্রি হয়, যার দাম ৬ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ২৩৬ টাকা। সবচেয়ে বেশি বিকিয়েছে ঘর সাজানোর ইনডোর প্ল্যান্ট ও ছাদবাগানের গাছ।
ছাদকৃষিরাজশাহীর বিনোদপুরের শারমিন আক্তার 'বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫'-এর ছাদবাগান শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন। তিনি জানান, ২০২২ সালে শুরু করা বাগানের চারা ও টব বিক্রি করে বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় হয়।
ছাদকৃষিচাঁদপুর সদর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান প্রধানিয়া করোনার সময়ে ছাদে শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করেন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর তিনটি বাগানে, তাঁর ভাষায়, ১৮টি দেশের প্রায় ৮৫ জাতের আঙুরগাছ ছিল।
ছাদকৃষিঢাকার বনশ্রী আবাসনে সাততলা ভবনের ছাদে গড়ে উঠেছে এক টুকরো গ্রামীণ প্রকৃতি। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ও তাঁর সহধর্মিণী ফেরদৌসী গুলবাগ গত কয়েক বছর ধরে সাজিয়েছেন এই সবুজের স্বপ্নপুরী। তিন স্তরে সাজানো এই ছাদকৃষিতে রয়েছে শাকসবজি, বাহারি ফুল ও মৌসুমি ফলের সমাহার।
ফুলঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিক বিপ্লব ২০২৫ সালের জুনে গোলাপের জাত, চারা, টবে পরিচর্যা এবং রোগ ও পোকা দমনের পরামর্শ দেন। বাংলাপিডিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যে তা যাচাই করে সাজানো হলো।
ফুলসুগন্ধি বেলি (Jasminum sambac) মাঠে ও টবে দুভাবেই চাষ করা যায়। কলমের চারা, রোদেলা ও পানি না জমা জমি, নিয়মিত সেচ এবং বছরে একবার ছাঁটাই হলে ভালো ফুল মেলে।