ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ ফেরানোর প্রকল্পের প্রথম বাঘিনিটি রাজ্য ছেড়ে পড়শি অসমের দিকে পা বাড়িয়েছে। দিন কুড়ি আগে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে উড়িয়ে আনা বছর তিনেকের বাঘিনিটি (বিটিআর টিএফ১) এনক্লোজার থেকে মুক্ত জঙ্গলে ছাড়ার পর তিন সপ্তাহে বক্সার পঁচিশ মাইল টাওয়ার থেকে ক্রমে পূর্ব দিকে এগিয়েছে, ঘুরেছে প্রায় ৩৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা।
জয়ন্তী আর চুনিয়া পেরিয়ে বাঘিনিটি পৌঁছেছে বাংলা-অসম সীমানার সঙ্কোশ নদীর পাড়ে। নদীর পূর্ব পাড়েই মানস টাইগার রিজার্ভের পশ্চিম দিকের কোর ও বাফার এলাকা লাগোয়া ৪২২ বর্গকিলোমিটারের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভ। ২০২১ সালে টাইগার রিজার্ভ ঘোষণার সময় সেখানে বাঘ ছিল একটি, এখন অন্তত ছয়টি।
অসম বন দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার রাতেই তারা খবর পায়, বাঘিনিটি সঙ্কোশের আশপাশে আছে এবং যেকোনো সময় নদী পেরিয়ে রায়মোনার জঙ্গলে ঢুকতে পারে। কোকরাঝাড়ের কচুগাঁও বন বিভাগের ডিএফও মুস্তাফা আলি আহমেদ বলেন, বাঘিনির গতিবিধি রায়মোনার দিকে, এই খবর তাঁরা পেয়েছেন, তবে জঙ্গলে তার উপস্থিতির প্রামাণ্য ছবি এখনো হাতে আসেনি। পশ্চিমবঙ্গ বন দপ্তর সরাসরি কিছু না বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাঘিনিটি সুস্থ এবং বক্সা ও সংলগ্ন জঙ্গলে ঘুরছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় বন মন্ত্রকের কর্মকর্তারা প্রকল্পের শুরুতে বলেছিলেন, এই বাঘিনির টানে শীতে বক্সা ঘুরে যাওয়া পরিযায়ী বাঘেদের কেউ স্থায়ীভাবে থেকে যাবে, এই আশাতেই প্রথমে একটি বাঘিনি আনা। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাল্মীকি থেকে একটি পুরুষ বাঘ আনার প্রাথমিক পরিকল্পনা আছে, পরে আরও একটি বাঘিনি; বনকর্তাদের লক্ষ্য দুই বাঘিনি ও এক বাঘের ২:১ অনুপাত।
বাঘিনিটির গলায় হাই ফ্রিকোয়েন্সি গ্রাউন্ড ট্র্যাকিং ও স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের রেডিও কলার আছে, জিপিএস অবস্থান দেখে তার গতিপথের ভার্চুয়াল ত্রিভুজ বানানো হয়েছিল; কাজে যুক্ত ৬০ জন প্রশিক্ষিত বনকর্মী, সঙ্গে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি ও ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরা। গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ে ১-২ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান মেলে, তবে কলারের তথ্য স্যাটেলাইটে পোর্টালে উঠতে কয়েক ঘণ্টা লাগে, ততক্ষণে বাঘের অবস্থান বদলে যায়। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, কেন শুরুতেই বাঘ-বাঘিনি জোড়ায় ছাড়া হলো না।
দুই বছর আগে মহারাষ্ট্রের তাডোবা থেকে ওডিশার সিমলিপালে আনা বাঘিনি জিনাতও ঝাড়খণ্ড পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়েছিল; এক মাস পর তাকে অচেতন করে ফেরত পাঠানো হয়, এখন তার চার শাবক সিমলিপালে। বাংলাদেশের সুন্দরবনসহ এই অঞ্চলের বাঘ সংরক্ষণে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গলের মধ্যে চলাচলের পথ আর রাজ্য বা দেশের সীমানা পেরোনো সহযোগিতা কতটা জরুরি।
প্রতিবেদনটি এই সময়ের জন্য লিখেছেন শিলাদিত্য সাহা ও সহেলী বিশ্বাস।
ছবি: রেডিও কলার পরানো এক বাঘিনি, রণথম্ভোর (প্রতীকী), Koshy Koshy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)