প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে মিলছে গাছের চারা। প্লাস্টিক দূষণ কমানো আর গাছ লাগাতে মানুষকে উৎসাহ দিতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন 'প্রয়াস'। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে পাকুন্দিয়া সদর ঈদগাহ মাঠে 'প্লাস্টিকের বিনিময়ে বৃক্ষ' কর্মসূচিতে প্রায় ৭০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
নিয়ম ছিল সহজ: তিনটি প্লাস্টিকের বোতল কিংবা নির্ধারিত পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে একটি চারা। বাড়িতে জমানো বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক নিয়ে হাজির হন নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী ও শিশুরা। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির ছয়টি বোতল দিয়ে দুটি চারা নিয়েছে। গৃহিণী আয়েশা এসেছিলেন ১২টি বোতল নিয়ে; ফেসবুকে খবর দেখে এসেছেন বলে জানান তিনি, বাসায় ব্যবহারের পর বোতল ও পলিথিন যেখানে-সেখানে ফেলায় পরিবেশের ক্ষতি হয়।
আয়োজকদের মতে, প্লাস্টিক ও পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার আর যেখানে-সেখানে ফেলার প্রবণতা পরিবেশের বড় হুমকি। শুধু সচেতনতার বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষকে সরাসরি যুক্ত করে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। প্লাস্টিক নির্দিষ্ট জায়গায় জমা রাখা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা এবং বেশি গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ার কথা বলেন বক্তারা।
সংগঠনের আহ্বায়ক নূরুল জান্নাত মান্না বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতা তৈরি আর বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দেওয়াই উদ্দেশ্য। অভূতপূর্ব সাড়া পেয়ে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটিতে মিশতে শত শত বছর লাগতে পারে, আর দেশে-বিদেশে প্লাস্টিক বর্জ্য নদী ও সাগরে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করছে। তাই যেখানে-সেখানে না ফেলে সঠিকভাবে সংগ্রহ ও অপসারণ জরুরি।
প্রতিবেদনটি চ্যানেল আই অনলাইনের এস কে রাসেলের।
ছবি: Arm.434 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0); ঢাকার রমনা পার্কের জলাশয়ে ভাসমান প্লাস্টিকের বোতল।
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন





মন্তব্য
(০)